কলকাতা: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন কাণ্ডে গুরুতর অসুস্থ তিন প্রসূতি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিন প্রসূতিকে নিয়ে আসা হচ্ছে কলকাতায়। গ্রিন করিডর করে, লাইফ সাপোর্ট দিয়ে কলকাতার SSKM হাসপাতালে আনা হচ্ছে তাঁদের। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজেের ভেন্টিলেশনে ছিলেন দুই প্রসূতি। এক প্রসূতি ছিলেন ICU-তে। (Medinipur Saline Death)
পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর সরঙ্গী জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়ে গিয়েছে। কাল সন্ধের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়বে। যে তিন প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজনক, গ্রিন করিডর করে কলকাতার SSKM-এ আনা হচ্ছে। বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে, ক্রিটিকাল কেয়ার এবং ভেন্টিলেশন সাপোর্টে কলকাতা আনা হচ্ছে তাঁদের। SSKM-এ শয্যার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। ১৩ সদস্যের বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। মোট চার প্রসূতি অসুস্থ। তবে একজনের অবস্থা তুলনামূলক ভাল। যাঁদের অবস্থা সঙ্কটজনক, তাঁদের কলকাতা আনা হচ্ছে।
যে জেলা হয়ে অ্যাম্বুল্যান্স আসবে, প্রত্যেক জায়গার থানা, ট্রাফিক পয়েন্টকে জানানো হয়েছ, যাতে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত না হয় অ্যাম্বুল্যান্সটি। টোল স্টেশনগুলিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন ব্যবহারের দরুণই প্রসূতিরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অনুমান করছে স্বাস্থ্য দফতরের ১৩ সদস্যের কমিটি। স্যালাইন ব্যবহারের পর প্রসূতিদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমেছে বলে খবর স্বাস্থ্যভবন সূত্রে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, ভেঙে যাচ্ছে রক্তকণিকা। প্রসূতিদের শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণও কমেছে। (Medinipur Saline Controversy)
এমনকি প্রসূতিতের কিডনিতে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। তিন প্রসূতির ডায়ালিসিস চলছে। স্যালাইন রহস্যভেদে প্রসূতিদের থেকে নমুনা নিয়ে বায়োপসি করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে, প্রসবের পরে দেওয়া অক্সিটোসিন ইঞ্জেকশন ও রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না। মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্যালাইনগুলি দীর্ঘদিন বাক্সবন্দি হয়ে থাকার দরুণ কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়েছিল কি না, তাও দেখা হচ্ছে খতিয়ে।
মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বারবার উঠে আসছে রিঙ্গার ল্যাকটেটের নাম। কী কাজে লাগে এই ওষুধ? সঠিক নিয়ম মেনে প্রস্তুত না করা হলে কতটা বিপদ হতে পারে? উত্তর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানিয়েছেন, রিঙ্গার ল্যাকটেট বা RL হল সোডিয়াম ল্যাকটেট দ্রবণ। এতে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, জল ও ক্যালশিয়াম ক্লোরাইড থাকে। মূলত প্রসূতিদের রক্তক্ষরণ বন্ধে, শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্য়বহার করা হয় এই ‘রিঙ্গার ল্যাকটেট’ স্যালাইন।
তবে অন্য যে কোনও অস্ত্রোপচারের পরেও এই রিঙ্গার ল্যাকটেট ব্যবহার করা হয়। নারী-পুরুষ সকলের উপরই প্রয়োগ করা হয় সেটি। তাঁদের কারও কিছু হল না, শুধুমাত্র প্রসূতিদের উপরই এত ক্ষতিকর প্রভাব হল কী করে, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাহলে কি স্যালাইন মজুত করে রাখাতেই কোনও সমস্যা হয়েছিল? উঠছে প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ওষুধ প্রস্তুত করার সময়ও অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। কারণ ওষুধের মান ঠিক না হলে, পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। ফরেন পার্টিকল ঢুকে গেলে মারাত্মক হতে পারে পরিস্থিতি। কতদিন ধরে স্যালাইন মজুত করে রাখা হয়েছিল, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে যে প্রসূতির মৃত্যু হয়, তাঁকেও এই রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের আরও দাবি, স্বাস্থ্য ভবনে মেদিনীপুর মেডিক্যালের তরফে যে রিপোর্ট জমা পডেছে, তাতে ‘পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্য়াল’ নামে সংস্থার তৈরি স্যালাইন ব্যবহারের ফলেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় বলে জানানো হয়েছে। যে সংস্থার স্যালাইনের ১৬টি নমুনা পরীক্ষা করে সেটিকে যথেষ্ট গুণমানের নয় বলে মাসখানেক আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কর্নাটকের ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ। তারপরেও এতদিন ধরে এই সংস্থার ওষুধ পশ্চিমবঙ্গে ব্যবহার হল কী করে, উঠছে প্রশ্ন।
আরও দেখুন
+ There are no comments
Add yours