কলকাতা : সুপ্রিম নির্দেশে রাজ্যের প্রায় ২৬০০০ জনের চাকরি বাতিল। চাকরি হারালেন দেবীনগর কৈলাসচন্দ্র রাধারাণী বিদ্যাপীঠের ২ জন শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা গুহ ও কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথ। ‘প্রথম কাউন্সেলিংয়ে চাকরি। স্নাতক স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। আমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। রাজ্যপালের কাছ থেকে স্বর্ণপদক নিয়েছি। তারপরেও যদি আমায় প্রমাণ করতে হয় আমি যোগ্য, কী অযোগ্য …আমার কিছু বলার নেই।’ কাঁদতে কাঁদতে বললেন চাকরিহারা শিক্ষিকা কৃষ্ণমৃত্তিকা নাথ।
তিনি বলেন, “২০১৬ সালে এসলএসটি। ২০১৮ সালে জয়েনিং। ফার্স্ট কাউন্সেলিংয়ে চাকরি। আমার আবেগের বহিঃপ্রকাশটা হয়ত খুব বেশি হবে। কারণ, আমার বাবা-মা আমার উপর ডিপেনডেন্ট। আজকের দিনের পর আমি জানি না কী হবে। আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। স্কুলে সেরকম একটা খবর পেয়ে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। আমি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স কমপ্লিট করেছি। স্নাতক স্তরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। আমি ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। আমি রাজ্যপালের কাছ থেকে স্বর্ণপদক নিয়েছি। তারপরেও যদি আমায় প্রমাণ করতে হয় আমি যোগ্য, কী অযোগ্য …আমার কিছু বলার নেই। এত বড় অমানসিক একটা কাজ। এত বড় সামাজিক অপমান কীভাবে মেনে নিয়ে এগিয়ে চলব, জানি না আমি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
আশার ছবি ভেঙে চুরমার। চাকরি বাতিলের খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন চাকরিজীবিরা। এই পরিস্থিতিতে কী করবেন তাঁরা বুঝতে উঠতে পারছেন না। এই রায়ে কার্যত অথৈ জলে পড়েছেন চাকরি প্রাপকরা। এদের মধ্যে অনেকেই সরকারি দফতরে চাকরি করা সত্ত্বেও ২০১৬-র SSC পরীক্ষায় বসেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাঁরাও দিশাহারা। ২০১৬ সালের SSC-র পুরো প্যানেলই এদিন বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত। শুধুমাত্র ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি বহাল থাকল। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) গত বছরের রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ, যাঁরা অন্য সরকারি দফতর থেকে এই চাকরিতে এসেছিলেন তাঁরা ৩ মাসের মধ্যে পুরনো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাস ছাড়া বাকি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা কাজ করতে পারবেন না। তবে তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানাল, ফৌজদারি মামলার ওপর এর প্রভাব পড়বে না।
আরও দেখুন