NOW READING:
Tainted বলে চিহ্নিত ৫.৪ হাজার, বাকি ২০ হাজারের চাকরি বাতিল কেন? কেন আলাদা হল না যোগ্য-অযোগ্য
April 3, 2025

Tainted বলে চিহ্নিত ৫.৪ হাজার, বাকি ২০ হাজারের চাকরি বাতিল কেন? কেন আলাদা হল না যোগ্য-অযোগ্য

Tainted বলে চিহ্নিত ৫.৪ হাজার, বাকি ২০ হাজারের চাকরি বাতিল কেন? কেন আলাদা হল না যোগ্য-অযোগ্য
Listen to this article


কলকাতা: হাইকোর্টের রায়ই বহাল রইল সুপ্রিম কোর্টে। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরিই বাতিল করল শীর্ষ আদালত। নিয়োগে ব্য়াপক দুর্নীতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তাই সকলের চাকরিই বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু চাকরি বাতিলের ক্ষেত্রে যোগ্য ও অযোগ্য বাতিল করা গেল না কেন, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, একই ভাবে প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকাতেও। এতদিন ধরে তদন্ত করেও কেন যোগ্য ও অযোগ্য আলাদা করা গেল না, প্রশ্ন তুলছেন চাকরিহারারা। এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। (SSC Scam)

এদিন শীর্ষ আদালত ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিল করেছে। সেই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, যাঁরা ‘Tainted’, অর্থাৎ যাঁদের চাকরি পাওয়া নিয়ে সন্দেহের যাবতীয় উপাদান মজুত রয়েছে, তাঁদের চার বছরের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। ‘Tainted’ হিসেবে এখনও পর্যন্ত ৫.৪ হাজারের মতো একটি সংখ্যা পাওয়া গিয়েছে। আর এখানেই প্রশ্ন যে, ‘Tainted’ চাকরি প্রাপকদের নির্দিষ্ট সংখ্যা যেখানে রয়েছে, সেক্ষেত্রে বাকিদের কেন বলি করা হল। (Supreme Court)

কিন্তু ‘Tainted’-দের ধরেই যোগ্য-অযোগ্য বিচার করা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন ফিরদৌস। এবিপি আনন্দে তিনি বলেন, “এভাবে সরলীকৃত করে দেখা ঠিক হবে না বিষয়টিকে। তিনটি বিভাগ থেকে Tainted-দের চিহ্নিত করা হয়েছে, ১) প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, ২) ননলিস্টেট প্রার্থী যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, ৩) CBI-এর উদ্ধার করা OMR শিটে যাঁদের নম্বর বাড়ানো হয়েছে। অনেকেই বলতে পারেন OMR শিট ধরেই হিসেব করা যেত। কিন্তু তা সম্ভব নয়।”

CBI-এর উদ্ধার করা OMR শিট ধরে কেন যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা গেল না, সে প্রসঙ্গে ফিরদৌস বলেন, “স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। কিন্তু তারা OMR শিটের ফিজিক্যাল কপি রাখেনি, মিরর ইমেজ পর্যন্ত তাদের সার্ভারে পাওয়া যায়নি। বরং গাজিয়াবাদে নাইসার এক আধিকারিকের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখানে জানা যায় ০ থেকে বেড়ে নম্বর কী করে ৫৩ হয়। ফলে চিহ্নিত সংখ্যার বাইরে অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। CBI জানিয়েছে, ইন্টারভিউয়ের নম্বরেও অনিয়ম হয়েছে। টাইপিং টেস্টেও হয়েছে অনিয়ম। OMR শিট মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় এক সংস্থাকে।”

অর্থাৎ ‘Tainted’ হিসেবে যে ৫ হাজার ৪০০ মতো চাকরিপ্রার্থীকে চিহ্নিত করা হয়, তার বাইরেও অনেক অযোগ্য থাকতে পারে। ফিরদৌস জানিয়েছে, আদালত বার বার যোগ্য ও অযোগ্যের সঠিক সংখ্যা জানতে চায়। কিন্তু এই চিহ্নিতকরণ সম্ভব হয়নি। তাই যোগ্য ও অযোগ্যের মধ্যে পৃথকীকরণ সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকার, স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং বোর্ড, তিন পক্ষ তিন রকমের তথ্য দিয়েছে। কেউ বলে, ৫৪৮৫, কেউ ৫১৮৯, কেউ ৪৩২৭। সংখ্যায় ফারাক থেকে যাচ্ছে। এর পর ইন্টারভিউয়েও অনিয়মের প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, যার সংখ্যা পাওয়া যায়নি। নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে এবং সংখ্য়া লুকনোর চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফিরদৌস। আদালতও জানিয়েছে, দুর্নীতি হয়নি শুধু, দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। 

২০১৬ সালের SSC-র পুরো প্যানেলই বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত। শুধুমাত্র ক্যান্সার আক্রান্ত সোমা দাসের চাকরি বহাল রাখা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের গত বছরের রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ, যাঁরা অন্য সরকারি দফতর থেকে এই চাকরিতে এসেছিলেন তাঁরা ৩ মাসের মধ্যে পুরনো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। ক্যানসার আক্রান্ত সোমা দাস ছাড়া বাকি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা কাজ করতে পারবেন না। তবে তাঁরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানাল, ফৌজদারি মামলার ওপর এর প্রভাব পড়বে না। 

আরও দেখুন



Source link