NOW READING:
‘নিজেদের অপরাধী মনে হচ্ছে, রাস্তায় নামিয়ে দিল, এখন আমি কী করব?’
April 5, 2025

‘নিজেদের অপরাধী মনে হচ্ছে, রাস্তায় নামিয়ে দিল, এখন আমি কী করব?’

‘নিজেদের অপরাধী মনে হচ্ছে, রাস্তায় নামিয়ে দিল, এখন আমি কী করব?’
Listen to this article


রাজা চট্টোপাধ্যায় ও সুজিত মণ্ডল, ধূপগুড়ি ও শান্তিপুর : কেউ গোল্ড মেডালিস্ট, কেউ আবার ক্যানসার আক্রান্ত। এরা প্রত্যেকেই আজ চাকরিহারা। কেউ চাকরি হারিয়ে রাগে ফুঁসছেন, তো কেউ অন্ধকার ভবিষ্যতের আশঙ্কায় কুঁকড়ে গেছেন। কারা দোষ করল আর কারা শাস্তি পেল কিছুতেই মেলাতে পারছেন না হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।

শিক্ষার আলোর মাঝে দাঁড়িয়েও ঘিরে ধরেছে অন্ধকার। অন্ধকার, অনিশ্চয়তার ছবি জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে। সেখানে এক কৃষক পরিবারের সন্তানের আচমকা সব হারিয়ে ফেলার গল্প সামনে এসেছে। 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন ধূপগুড়ির বারঘরিয়ার বিদ্যাশ্রম দিব্যজ্যোতি বিদ্যানিকেতন উচ্চবিদ্যালয়ে ১২ জন শিক্ষক। চাকরিহারাদের মধ্যে রয়েছেন কোচবিহারের বাসিন্দা এই স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক প্রসেনজিৎ দাস। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত কৃষক পরিবারের সন্তান প্রসেনজিৎ। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক হোক বা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজাল্ট, প্রসেনজিতের নম্বর সব সময় ছিল চোখে পড়ার মতো।

অভাবের সংসারে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ চালিয়েছেন। পড়াশোনা শেষ করেই সরকারি চাকরির পরীক্ষা দেওয়া শুরু করেন। ২০১৬ সালে পরীক্ষা দিয়ে পেয়ে যান স্কুলের চাকরিটা। চাকরি পেয়ে ভেবেছিলেন বোধহয় সুসময় এসেছে। সংসারে স্ত্রী, মা, বাবা, দুই ভাই ও এক বোন রয়েছে। ঋণ নিয়ে কোচবিহারের পরিবারের জন্য ভাল বাড়ি করেছেন। স্কুলে যাতায়াতের সুবিধার জন্য স্ত্রীকে নিয়ে ধূপগুড়ির ভাড়া বাড়িতে থাকেন। চাকরি চলে যাওয়ায় মাথায় বাজ পড়েছে তাঁর। অসুস্থ মা-বাবার ওষুধের টাকা থেকে শুরু করে ঋণের টাকা শোধ করবেন কী করে ভেবে পাচ্ছেন না। 

প্রসেনজিৎ দাস বলেন, “যারা চুরি করল তাদের সঙ্গে আমাদের মিশিয়ে দিল। আমাদের মাটিতে মিশিয়ে দিল। শিক্ষকতার চাকরির জন্য পরীক্ষা দিলাম, পাস করলাম ভাল করে। কঠোর পরিশ্রম করে তার ফল আজকে…উপরে উঠে আবার নামতে হচ্ছে। এখন আমি কী করব? মা-বাবা বয়স্ক, EMI দিতে হয়।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের নিজেদের অপরাধী মনে হচ্ছে। আমাদের রাস্তায় নামিয়ে দিল।”

২০১৬ সালে SSC-র পরীক্ষা দিয়েছিলেন। প্রাথমিক স্কুলের চাকরি ছেড়ে ২০১৮ সালে শান্তিপুর শহরের তন্তুবায় হাই স্কুলে দর্শন বিভাগে শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন রুমা পণ্ডিত। স্বামী, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে ঠিকঠাকই চলছিল সংসার। আচমকা ছন্দপতন হল। সুপ্রিম কোর্ট রায় চাকরি হারালেন নদিয়ার শান্তিপুর পুরসভা এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আগমেশ্বরী তলার বাসিন্দা রুমা।

রুমা পণ্ডিত বলেন, “রাজ্য সরকারের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টকে বলব বিষয়টা আরও ভেবে দেখার আছে। কয়েকটা ছেলে মেয়ের জন্য এত হাজার হাজার ছেলে মেয়েকে বলি দিতে পারে না রাজ্য সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টে।”

চোখের জলে, হতাশায়, উদ্বেগে, উৎকণ্ঠায় এভাবেই দুর্নীতির চরম খেসারত দিচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। 

আরও দেখুন



Source link