অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা : সুপ্রিম কোর্টে রায়ে রাতারাতি চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী। অসহায় অবস্থায় পড়েছেন যোগ্য শিক্ষকরা। রাজ্য সরকার কী বলছে সেদিকে তাকিয়ে অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার মুখাপেক্ষী তাঁরা। এই অবস্থায় তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশে চাকরিহারাদের একাংশ। মিনিট দশেকের ছোট সাক্ষাৎ হয় তাঁদের। বেরিয়ে আসার পর তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি। তাঁরা বলেছেন, যা বলার ৭ তারিখের পর বলবেন। অর্থাৎ, তাঁরা অপেক্ষা করছেন ৭ তারিখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোরে তাঁদের কী বার্তা দেন তার উপর।
এদিকে এই ইস্যুতে কুণাল বলেন, “যাঁরা এত খেটেখুটে পৌঁছেছেন তাঁদের কেন এই হয়রানির মধ্যে পড়তে হবে ? যাঁদের কোনও দোষ নেই তাঁরা কেন এই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বেন ? কীসের এত তাড়াহুড়ো ছিল..মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ? কীসের তাড়াহুড়ো ছিল ? সিবিআইয়ের বহু মামলা আছে যেগুলো সময়সাপেক্ষ…সময়সাপেক্ষ। মাঝেমাঝে বিজেপি সেগুলো ব্যবহার করে। এটা কোন ধরনের বিচার হয়েছে ? আমরা এই রায়টি…সুস্থ, স্বাভাবিক ন্যায়বিচার বলে মনে করছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার চায়, জাস্টিস ফর অল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাঁদের বাঁচাতে, রক্ষা করতে কোনও চেষ্টা করবে না। করেনি, করছেও না। কিন্তু, যে ছেলে-মেয়েগুলি চাকরি করছে, তাঁদের সকলকে জলে ফেলে দেওয়া …এই রায় সমর্থন করা যাচ্ছে না। সেখান থেকেই বিরোধীরা…সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস তারা উস্কানিমূলক , মিথ্যা এবং কুৎসা প্রচার করছে।”
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখে ২০১৬ সালের SSC-র পুরো প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। চাকরি গেছে ২৫ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীর। আর সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় নিয়েই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। টেনে আনেন সদ্য় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বর্তমান প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নাকে! মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, “তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মিস্টার চন্দ্রচূড়জি এটাকে স্থগিত করে দিয়েছিলেন, হাইকোর্টের রায়কে। একজন প্রধান বিচারপতি স্থগিত করলেন, আরেকজন প্রধান বিচারপতি ক্যানসেল করলেন, এটার মানে টা আপনারা খুঁজে নেবেন, আমি নয়। আমি কিন্তু বিচারপতিতে সম্মান জানিয়েই বলছি, আমি এই রায় মেনে নিতে পারছি না।”
আরও দেখুন