নয়া দিল্লি: কী হবে এসএসসি-র ২৬ হাজার চাকরিজীবীর ভবিষ্যৎ? পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হবে, নাকি শনাক্ত হবে বৈধ-অবৈধ চাকরি? আজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে চলছে এসএসসি মামলার শুনানি। সেই শুনানি চলাকালীন অতিরিক্ত শূন্যপদ এবং ওএমআর শিট নিয়ে প্রধান বিচারপতির একাধিক প্রশ্নের মুখে রাজ্য এবং সিবিআই।
এদিন শুনানির প্রথমেই রাজ্যর অবস্থান জানতে চান প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের অবস্থান কি? রাজ্য কি মনে করে যে বৈধ-অবৈধ আলাদা করা সম্ভব? নাকি সম্ভব না ‘সিবিআই এ নিয়ে একাধিক রিপোর্ট দিয়েছে। কারা বৈধ, কারা অবৈধ এই বিভাজন করা সম্ভব কি না দেখা হবে। আপনারা অতিরিক্ত শূন্য পদ কেন তৈরি করেছিলেন?’ যদিও রাজ্যের তরফে বলা হয়, ‘যখন নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে সনাক্ত করা গেছে তখন কেন প্রায় ২৬ হাজার ব্যক্তিকে বের করে দেওয়া হবে? কাউকে নিয়োগ করিনি, মানবিক কারণে কলকাতা হাইকোর্ট একজনকে নিয়োগপত্র দিতে বলেছিল’, সওয়াল রাজ্যের।
যদিও প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এরপর বলেন, ‘অতিরিক্ত শূন্য পদ যখন তৈরি করলেন, সেই মুহূর্তেই নিশ্চিত করলেন অবৈধদের যাতে চাকরি থেকে বের না করে দেওয়া হয়’।
শুধু শূন্যপদ নয়, ওএমআর শিট নিয়েও একাধিক প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি জানতে চান, ‘ওএমআর শিট কবে নষ্ট করে দেওয়া যায় তার কোনও নিয়ম আছে? OMR শিটের মিরর ইমেজ কি এসএসসি সংরক্ষণ করেছিল? SSC-র কি উচিত ছিল না মিরর ইমেজ রেখে দেওয়া? কারণ এ ক্ষেত্রে আসল নথি হচ্ছে ওএমআর । OMR শিট পরে ভর্তি করা হয়ে থাকে বা পরিচয় গোপন করা হয়ে থাকলে, সেটা OMR থেকেই দেখা যেত। মূল কথা সেটা হল যে, আমাদের হাতে আসল OMR নেই। এমন কোনও স্ক্যানড কপি বা মিরর ইমেজ নেই যেটা আমরা দেখতে পারি? স্ক্যানিং এর ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, ডেটা স্ক্যানটেক এই কাজ SSC-র অফিসে করেছে। আমাদের কাছে আসল omr এর কোনো ইমেজ নেই, এগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে বৈধ-অবৈধ আলাদা করার কোনো উপায় নেই, সমস্ত পরীক্ষার্থীর OMR শিট সার্ভারে আছে ? নাকি কিছু হারিয়ে গেছে?’
এ বিষয়ে রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, ওএমআর শিট এক বছর পরে নষ্ট করে দেওয়া যায়, সেই নিয়ম আছে। তবে ওএমআর শিট এর কোনও মিরর ইমেজ সংরক্ষণ করা হয়নি’।
আরও দেখুন