কলকাতা: বিকৃতি থেকে নষ্ট করা। নিয়োগ দুর্নীতিতে বারবার সামনে এসেছে OMR শিটের প্রসঙ্গ। এবিপি আনন্দ দেখিয়েছিল, আদতে সাদা খাতা জমা পড়েছিল। কিন্তু শূন্য থেকেই নম্বর বেড়ে কেউ পেয়েছে ৫০, কেউ ৫২, তো কেউ ৫৩। OMR-এ যে কারচুপি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কপিতেও।
লাগামছাড়া কারচুপি!কোটি কোটি টাকার লেনদেন! সাড়া ফেলে দেওয়া কেলেঙ্কারি! SSC-র সেই নিয়োগ দুর্নীতির মামলায়, ২০১৬ সালের পুরো প্য়ানেল বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই দুর্নীতিতে বারবার যেখানে কারচুপি সামনে উঠে এসেছিল, তা হল OMR!!! আর আগাগোড়া সেই ছবি তুলে ধরেছিল এবিপি আনন্দ! সেই সাদা খাতা অর্থাৎ ফাঁকা OMR এসেছিল এবিপি আনন্দর হাতেও। যেখানে একটিও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়নি। একটিও প্রশ্নের উত্তরে কোনও কালির দাগ নেই। অথচ, এই প্রার্থীরা স্কুলে চাকরি পেয়েছেন বলে সিবিআই সূত্রে দাবি।
নিয়োগ-দুর্নীতির তদন্তে গাজিয়াবাদে গিয়েছিল CBI. নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি’র OMR শিট তৈরি ও মূল্যায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার অফিসে হানা দিয়ে হার্ড ডিস্ক ও আসল OMR শিট বাজেয়াপ্ত করেন গোয়েন্দারা। অন্যান্য নথির সঙ্গে সেই OMR শিট হাইকোর্টে জমা দেওয়া হয়। আর তাতেই সামনে আসে চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য! এবিপি আনন্দর হাতে আসা, এরকম একাধিক OMR শিটে দেখা যায়, একের পর এক প্রশ্নের উত্তরের জায়গা ফাঁকা!
উত্তর দেওয়া তো দূরের কথা, কোথাও কোনও দাগও নেই! অথচ মারাত্মক বিষয় হল, আদালতে পেশ করা সিবিআইয়ের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল,স্কুল সার্ভিস কমিশনের সার্ভারে এঁদেরই কারও প্রাপ্ত নম্বর ৫০, কারও ৫২, কারও ৫৩! মানে খাতা ফাঁকাই রয়ে গেছে..। কিন্তু, গাজিয়াবাদ থেকে কলকাতা আসতে আসতে, নম্বর শূন্য থেকে ৫০ ছাড়িয়ে গেছে! শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, সেই অনুযায়ী সর্বোতভাবে আমরা বঞ্চিত এবং যোগ্য যাঁরা আছেন, তাঁদের পাশে আমরা সর্বোতভাবে থাকব।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কাল তো মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন অটোনমাস বডি। তাহলে, SSC-কে যা নির্দেশিকা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের, SSC-কে, SSC-র চেয়ারম্যান ও সচিব, তাঁরা দায়বদ্ধ। তাঁরা কথা বলুক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখটা সেলাই করে রাখুন।’সুপ্রিম কোর্টের বৃহস্পতিবারের রায়েও OMR-এর প্রসঙ্গ রয়েছে। রায়ের ৩৫ নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪-এর ৫ই ফেব্রুয়ারি, CBI-এর দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়, OMR শিটের মূল্যায়ন এবং SSC-র রেকর্ড করা নম্বরের মধ্যে অমিল রয়েছে। এই অমিল, এই কারচুপির খেসারতই অযোগ্য়দের সঙ্গে দিতে হল হাজার হাজার যোগ্য় প্রার্থীকেও।
আরও দেখুন