কলকাতা: দু’বছর আগে মে মাসে ঢোলাহাটের মতোই ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার খাদিকুল। ঝলসে মৃত্যু হয় ১১ জনের। ঘটনার, ১১ দিন পর হেলিকপ্টারে করে খাদিকুলে গিয়ে গ্রিন বাজির ক্লাস্টার তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। কিন্তু দু বছর পরও সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। তার মধ্যেই এবার পুলিশের গলায় শোনা গেল নতুন আশ্বাস। আদৌ এসবের বাস্তবায়ন হবে তো?
কবে হবে বাজির ক্লাস্টার? দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাটে বাড়িতে মজুত করা বেআইনি বাজি প্রাণ কেড়েছে এক পরিবারের ৮ জনের। দু বছর আগে, ২০২৩ সালের ১৬ মে, ঢোলাহাটের মতোই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার খাদিকুলে। মৃত্যু হয় ১১ জনের। এই ঘটনার, ১১ দিন পর হেলিকপ্টারে খাদিকুলে যান মুখ্য়মন্ত্রী। দেন ক্লাস্টার তৈরির আশ্বাস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমরা বাজি কারখানা তৈরি করবার ক্লাস্টার তৈরি করব এবং সেখানে যারা বাজি কারখানার মালিক, বাজি কারখানা করতে চান, ফায়ার ক্র্যাকার নয়, যা জীবন নষ্ট করে।” কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি কি দু বছর কেটে যাওয়ার পরও আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে? পশ্চিমবঙ্গ বাজি শিল্প উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর মান্না বলেন, “২০২৩ সালে বৈঠক হয়েছিল। জমি চিহ্নিত হয়েছে। কাজ হয়নি… ম্যাগাজিনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। সেটাও করেনি।”
এগরার খাদিকুলে হাড়কাঁপানো দুর্ঘটনার পর কেটে গেছে দু-দুটো বছর। তারপর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ, উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর, পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকে কল্য়াণীর রথতলা, একের পর এক বিস্ফোরণে প্রাণ গেছে আমজনতার। কিন্তু গ্রিন বাজির ক্লাস্টার এখনও পর্যন্ত তৈরি হয়নি। এদিকে এবারের বিস্ফোরণের পর, পুলিশের গলায় শোনা গেছে নতুন আশ্বাস। ADG দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার বলেন, “লোকালয়ের মধ্যে বাচ্চা আছে, বয়স্ক আছে, পাড়া প্রতিবেশী আছে, বাজারহাট আছে, স্কুল-কলেজ আছে, সেখানে যাতে বাজি মজুত না করা হয়, যাতে স্টোরেজ করা যায় কোনও একটা সেফ জায়গায়, যেখানে মানুষের জনবসতি নেই, সেটা আমরা শীঘ্রই বৈঠক করব।”
এদিকে ঢোলাহাটের বেআইনি বাজি কারখানার মালিক চন্দ্রকান্ত বণিক ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। তবে, বেআইনি বাজির কারবারের কারণে আগেও গ্রেফতার হয়েছিলেন চন্দ্রকান্ত বণিক। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের এই অবৈধ কারবারে যুক্ত হন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পুলিশ কালীপুজোর সময় এসে টাকা নিয়ে যেত। ADG দক্ষিণবঙ্গ জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই করা হবে।
আরও দেখুন