করুণাময় সিংহ, মালদা: অতিরিক্ত জেলাশাসকের শোওয়ার ঘরের এসির মুখ থেকে কিলবিল করে বেড়িয়ে আসছে একের পর এক সাপ। আর তা দেখে রীতিমত চক্ষুচড়ক গাছ খোদ অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অনিন্দ্য সরকারের।
জানা গিয়েছে, শোওয়ার ঘরের এসি থেকে কিলবিল করে বেরিয়ে আসছে সাপ , দেখতেই পরিবার নিয়ে ঘরের এক কোনায় লাফিয়ে চলে যান অতিরিক্ত জেলাশাসক। এরপরই খবর যায় সর্পপ্রেমী নিতাই হালদারের কাছে। যেমনটি ফোন তেমনি কাজ। পুরাতন মালদা থেকে মোটরবাইক নিয়ে ছুটে আসেন সর্প প্রেমী নিতাই হালদার। ইংরেজবাজার শহরের মাধবনগর এলাকায় অতিরিক্ত জেলা শাসকের বাংলোতে গিয়েই একের পর এক সাপ উদ্ধার করতে থাকেন নিতাইবাবু। যদিও উদ্ধার হওয়া ৮টি সাপ বিষধর নয় বলেই জানিয়েছেন সর্প বিষারদ নিতাই হালদার। শীতকালে এসি বন্ধ থাকায় সেখানে প্রজনন ঘটিয়েছে সাপ বলে মনে করছেন সর্পপ্রেমী।
গতকাল আরও একটি এমনই ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানা এলাকায়। সেখানেও একটি বাড়ির এসির মধ্য থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি সাপ ! পূর্ব সোনাটিকারির বাসিন্দা সুব্রত দাসের বাড়ির এসি থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি সাপ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গরম পড়তেই গতকাল এসি চালিয়েছিলেন পরিবারের সদস্য। তাঁদের দাবি এসি চালানোর পর আওয়াজ পেয়ে এসি বন্ধ করেন। এসির দিকে লক্ষ্য করে তারা সাপের লেজ দেখতে পান। পরবর্তী তাঁরা খবর দেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে। রাতের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা এসে দুটো সাপ উদ্ধার করেন। আজ সকালে ফের খবর পেয়ে তাঁরা ওই এসি থেকে আরও তিনটি সাপ উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, সাপগুলি মানুষের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। এরা সাধারণত বাড়ির টিকটিকি ও পোকামাকড় ধরে খায়। খাবারের সন্ধানে হয়তো এসির মধ্যে ঢুকে ছিল।
আরও পড়ুন, ‘ইদে সবাই অংশ নিলে, রামনবমীতেও সবার অংশগ্রহণ করা উচিত..’, বলছেন দিলীপ ঘোষ
এই ঘটনায় গৃহবধূ বলেন, ‘গরম পড়ার পর, গতকাল প্রথম আমাদের এসিটা চালানো হয়। হঠাৎ দেখা যায়, এসির ভিতর থেকে লেজ ঝুলছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা ভয় পেয়ে যাই। তারপরে আমরা আবার এসিটা চালাই। কিন্তু দেখতে পাই, এসিটা চলছে না। আমি এরপরেই বলি এসি বন্ধ করতে। মনে হয়েছে সাপ আছে। তারপরে আমরা সাপ কিনা, নিশ্চিত হতে ছাদের উপরে যাই। গিয়ে দেখি যে, ওটা সাপ। মাথাটা দেখা যাচ্ছে। দেখে স্বাভাবিকভাবেই ভয়ই পেয়ে গেছি। ফোন করি বন দফতরে। শেষে ওখান থেকে সাপ বের হয়।’
আরও দেখুন