নয়াদিল্লি: দেশের জার্সিতে জোড়া অলিম্পিক্স পদক ঝুলিতে। টোকিওর পর প্যারিস অলিম্পিক্সেও ব্রােঞ্জ ঝুলিতে পুরেছিল ভারতীয় হকি দল। আর সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন হরমনপ্রীত সিংহ। প্যারিসে তো দেশের অধিনায়কও ছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হরমনপ্রীত জানিয়েছেন যে তাঁর জীবনের সেরা ম্য়াচ কোনটি। আর সেখানে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে গত অলিম্পিক্সে খেলা ম্য়াচটির কথাই উল্লেখ করেছেন হরমনপ্রীত। সেই ম্য়াচে প্রায় ৪৩ মিনিট একজন প্লেয়ার কম নিয়েই খেলতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। সেই ম্য়াচটিই ভারতীয় হকি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ড্র করে পরে শ্যুট আউটে ম্য়াচ জেতে ভারত।
এক সাক্ষাৎকারে হরমনপ্রীত বলেন, ”এটা সত্যি এখনকার যা হকির আধুনিকতা। তাতে একজন প্লেয়ার কম নিয়ে প্রায় ৪৩ মিনিট লড়াই করা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। আমরা সেই লড়াইটাই করেছিলাম প্যারিস অলিম্পিক্স গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে। ওঁদের দলের স্ট্রাইকিং লাইন আপ খুবই শক্তিশালী ছিল। এমনকী বডি অ্য়াটাক করছিল। ম্য়ান মার্কিং করে খেলার চেষ্টা করেছে গ্রেট ব্রিটেন পুরো ম্য়াচে। তবে আমাদের ছেলেরা ঠাণ্ডা মাথায় বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে লড়াই করেছে গোটা ম্য়াচে। লাল কার্ড দেখার পর আমাদের প্লেয়ার একজন কমে গিয়েছিল। আমর জানতাম লড়াইটা কঠিন হবে। তবে নিজেদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা ছিল আমাদের প্রত্যেকের। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ড্র রাখা ও পরে শ্যুট আউটে ম্য়াচ জেতা। আমাদের কাছে বিশাল প্রাপ্তি ছিল। ওটাই আমার কেরিয়ারের এখনও পর্যন্ত সেরা ম্য়াচ হিসেবে বেছে নেব আমি।” তবে প্রস্তুতি কী করেছিলেন কোনওভাবে যে যদি একজন প্লেয়ার কমে যায়, তবে কী করবেন? হরমনপ্রীত বলছেন, ”আমাদের প্রস্তুতিতে আমরা এই বিষয়টাকে মাথায় রাখি। হয় লাল বা সবুজ কার্ড কাউকে দেখানো হতেই পারে। সেক্ষেত্রে কীভাবে দল এগােবে, কোন গেমপ্ল্যানে খেলবে, এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হয়।”
অলিম্পিক্সে খেলা ও সেখানে পদক জেতার পর ভারতীয় হকির মান যে অনেক বেশি উন্নত এখন তা মেনে নিচ্ছেন হরমনপ্রীত। তিনি বলছেন, ”টানা দুটো অলিম্পিক্সে পদক জেতা সত্যিই দারুণ একটা অনুভূতি ছিল আমাদের জন্য। তবে হকির উন্নতিতে হকি ইন্ডিয়া লিগের অবদানও উল্লেখ করতে হবে। দেশের তরুণ হকি প্লেয়াররা নিজেদের পারফরম্য়ান্স দেখানোর সুযোগ পাচ্ছি।
আরও পড়ুন: দ্রাবিড়ের ছত্রছায়ায় তালিম নেওয়া, স্যামসনের নেতৃত্বে খেলা, কী বলছেন জয়সওয়াল?
আরও দেখুন