কলকাতা: মেদিনীপুর মহিলা থানার ভিতরে গায়ে গরম মোম ঢেলে SFI নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। আর এই মামলায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল রাজ্য পুলিশকে। থানায় মোম কেন রাখা ছিল, সেই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের আইনজীবী হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে বললেন, মশার ধূপ জ্বালানোর জন্য মোম রাখা ছিল থানায়।
SFI নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ: SFI নেত্রী সুচরিতা দাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, মেদিনীপুর মহিলা থানার সমস্ত CCTV ক্যামেরার ফুটেজ এবং ডিজিটাল ফুটেজ খতিয়ে দেখার জন্য, ব্যারাকপুরের স্বামী বিবেকানন্দ পুলিশ অ্যাকাডেমির IG মুরলীধর শর্মাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করার দায়িত্বও এই সিনিয়র IPS অফিসারকেই দিয়েছিল হাইকোর্ট। সব কিছু খতিয়ে দেখে ২৫ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট দেন IPS অফিসার মুরলিধর শর্মা। তার রিপোর্টের ভিত্তিতে এবার মেদিনীপুর মহিলা থানার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি। মেদিনীপুর মহিলা থানায় SFI নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায়, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল রাজ্য পুলিশকে।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ আমি দেখেছি। নির্যাতনের প্রমাণ আছে। কাউকে আটক বা গ্রেফতার করে অত্যাচার করা এবং সেই অত্যাচার করে উল্লসিত হওয়াটা চলতে পারে না। থানায় মোম দেখা গেছে।” থানায় মোম থাকার প্রসঙ্গে তখন রাজ্য সরকারের আইনজীবী বলেন, “কাগজ সিল করা, মশার ধুপ জ্বালানোর জন্য মোম ছিল।” এদিন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ”IGP-কে সম্পূর্ণ ফুটেজ দেওয়া হয়নি। ১৭ ঘণ্টার মধ্যে ১৩ ঘণ্টার ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। চার ঘণ্টার দেওয়া হয়নি কেন? চুলের মুঠি কেন ধরা হয়েছিল? ওই থানা পুনর্গঠন করতে বলুন।”
৩ রা মার্চ, যাদবপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে মেদিনীপুর কলেজের সামনে বিক্ষোভ দেখায় SFI। আর সেখান থেকে থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে, সিপিএম-এর ছাত্র সংগঠনের নেত্রীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। এই মেদিনীপুর মহিলা থানাতেই, পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন ডিএসও নেত্রী সুশ্রীতা সোরেন। তাঁর মামলাও বিচারাধীন রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেই। আগামী সোমবার সুশ্রীতা সোরেন মামলার শুনানি। এপ্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “পুলিশ যদি অন্য়ায় করে থাকে তাহলে কোর্ট শাস্তি দিলে দেবে।”
আরও দেখুন