হিন্দোল দে, আবির দত্ত ও জয়ন্ত পাল, কলকাতা: লাথি-ঘুষি-হেলমেট দিয়ে মার! বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্য়ান ও তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তর অনুগামীদের আচরণের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে ক্য়ামেরায়। তারপরও, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্য়বস্থা নেওয়া তো দূর অস্ত, দাপুটে তৃণমূল নেতার পাশেই দাঁড়াল পুলিশ। সব্য়সাচী দত্তর আচরণে কোনও দোষ দেখতে পেলেন না পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও!
সুপ্রতিম সরকার, এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) বলেন, এটা ‘অন রেকর্ড’ ক্লিয়ার করে দিতে চাই প্রথম বেআইনি কাজটা কিন্তু আন্দোলনকারীদের তরফেই করা হয়েছিল। চাকরিহারা আন্দোলনকারী সুমন বিশ্বাস বলেন, পুলিশ কি সব্যসাচী দত্তকে ভয় পায়? ইট তুলে হুমকি।হেলমেট দিয়ে বেধড়ক মার। লাথি-ঘুষি। বৃহস্পতিবার সকালে বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্য়ান ও তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তর অনুগামীদের এই আচরণের স্পষ্ট ছবি ধরা পড়েছে ক্য়ামেরায়। তারপরও, আইনি ব্য়বস্থা নেওয়া তো দূর অস্ত, দাপুটে তৃণমূল নেতার পাশেই দাঁড়াল পুলিশ। সুপ্রতিম সরকার, এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) বলেন,তিনি (সব্যসাচী দত্ত) বিকাশভবনে একটি কাজে যাচ্ছিলেন। এটা কি আমার আইনি অধিকারের মধ্য়ে পড়ে আমি তাঁকে রাস্তায় আটকে দেব? এটা প্রথম বেআইনি কাজটা আন্দোলনকারীদের তরফে শুরু হয়েছিল। তারপরে স্য়র যেমন বললেন, উনি বেরোন, বোঝানোর চেষ্টা করেন, হেনস্থা করা হয়।
মার খেল যাঁরা, দোষ হল তাঁদেরই! আন্দোলনকারী চাকরিহারা চিন্ময় মণ্ডল বলেন,তিনি (সব্যসাচী দত্ত) তো সরকারেরই একজন। যে দলের সরকার সেই দলেরই একজন জনপ্রতিনিধি। ওই জন্যই হয়তো কোনও ব্যবস্থা হবে না। আর উনি (সব্যসাচী দত্ত) তো এখানে শুধু দিনেরবেলা এসেছেন তা নয়, রাতেও দেখেছি উনি বাইকে করে অনেককে নিয়ে এসেছেন এবং তাঁরা এখান থেকে বাইকে করে চলে যাচ্ছে। অনুগামীরা গুণ্ডামি করল!চাকরিহারারা মার খেল আর সংবাদমাধ্য়ম প্রশ্ন করায় এবিপি আনন্দর সাংবাদিককে ধাক্কা মারলেন সব্য়সাচী দত্ত…ধাক্কা মেরে এবিপি আনন্দর বুমও সরিয়ে দিলেন!…হেনস্থা করা হল টিভি নাইন বাংলার রিপোর্টারকেও! রক্তাক্ত হলেন টিভি নাইন বাংলার ক্য়ামেরাম্য়ান। কিন্তু তারপরও সব্য়সাচী দত্তর আচরণে কোনও দোষ দেখতে পাচ্ছন না পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও!পুরমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ করছে যে, আপনারা রাস্তা আটকে রেখে দিয়েছেন। আর সব্যসাচী দত্ত চুপ করে বসে থাকবে!
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই সব্যসাচীর কোনও কাজ ছিল না, ওকে মমতা পাঠিয়েছে। ওকে এসব নোংরামি করে, গুন্ডামি করে নম্বর বাড়াতে হবে।’ চাকরিও গেল! মারও খেল!এবার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলাও করল!সূত্রের খবর,আন্দোলনকারী চাকরিহারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। সুপ্রতিম সরকার এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ)বলেন, উস্কানি দিয়েছেন। পুলিশকে মেরেছেন। সেই ফুটেজও আমাদের কাছে আছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিশ্চয়ই নেব। চাকরিহারা সুমন বিশ্বাস বলেন, পুলিশ আমাদের নামে সুয়োমোটো মামলা করেছে। ১৭ জন। তাহলে পুলিশ কেন সব্যসাচী দত্ত-সহ গুন্ডা যারা হেলমেট দিয়ে, তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তাঁরা যেভাবে পায়ের উপর লাথি মেরেছে। কেন ব্যবস্থা নিল না? সব মিলিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
আরও দেখুন